প্যালিয়েটিভ কেয়ার/ প্রশমন সেবা একটি চিকিৎসাসেবা এবং সার্বিক পরিচর্যা পদ্ধতি। এটি মমতা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে গুরুতর, দীর্ঘস্থায়ী বা নিরাময় অযোগ্য জীবনসীমিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ভোগান্তি কমানো এবং মর্যাদা রক্ষার কথা বলে। এই ভোগান্তির ব্যপ্তি শারীরিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্যালিয়েটিভ কেয়ার ব্যক্তির শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি মানসিক, আর্থ-সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক ভোগান্তি কমানোর কথা বলে।
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তি ও তার পরিবারের পাশে কমিউনিটি সহায়তা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সেই সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সহযোগিতা প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মূলনীতি।
দ্য ল্যানসেট কমিশন (২০১৭) অনুযায়ী, প্রতি বছর মৃত্যুবরণকারী মানুষের প্রায় অর্ধেকই এমন “গুরুতর স্বাস্থ্যজনিত কষ্টে” ভোগেন, যা প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মাধ্যমে লাঘব করা সম্ভব। এদের প্রায় ৮০% নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করেন। প্রতি বছর প্রায় ৫৬.৮ মিলিয়ন মানুষ প্যালিয়েটিভ সেবার প্রয়োজনীয়তায় পড়লেও, মাত্র ১৪% তা পান।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, প্রতি বছর আনুমানিক ৬ লক্ষ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রয়োজন অনুভব করেন। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি উদ্বেগজনক প্রতি বছর প্রায় ২,২২,০০০ শিশু ও কিশোর প্যালিয়েটিভ সেবার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে পড়ে।তাই প্যালিয়েটিভ কেয়ার শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়; এটি এক মানবিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার “যত্ন, সহানুভূতি ও মর্যাদার মাধ্যমে জীবনের মান উন্নয়ন”।